মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ঐতিহাসিক নিদর্শন

 

ইদ্রাকপুর কেল্লা
ইদ্রাকপুর কেল্লা মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রান কেন্দ্রস্থলে ইদ্রাকপুর কেল্লা অবস্থিত। মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে সেনাপতি ও বাংলার সুবেদার মীর জুমলা কর্তৃক ১৬৬০ সালে বিক্রমপুরের এই অঞ্চলে ইদ্রাকপুর কেল্লা নামে এই দুর্গটি নির্মিত হয়। মগ জলদস্যু ও পর্তুগীজদের আক্রমন হতে এলাকাকে রক্ষা করার জন্য এই দূর্গটি নির্মিত হয়। জনশ্রুতি আছে এ দূর্গের সাথে ঢাকার লালবাগের দূর্গের সুড়ঙ্গ পথে যোগাযোগ ছিল। বহু উচ্চ প্রাচীর বেষ্টিত এই গোলাকার দূর্গটি এলাকায় এস.ডি.ও কুঠি হিসাবে পরিচিত। ঐতিহাসিক এই দূর্গটি সংস্কার করা একান্ত প্রয়োজন।

 

বাবা আদমের মসজিদ

প্রায় ১০০০ বছর পূর্বে হিজরী ৪২১ সনে ৯৭৪ খ্রিঃ সুদূর আরব দেশ হতে পবিত্র ইসলাম ধর্ম প্রচার করার জন্য মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর আনসার ও মুজাহিদ হিসেবে আওলিয়াগণ বাংলাদেশের এই স্থানে আগমন করেন। পূর্বে এই স্থানটি কালীদাস সাগর ছিল। পরবর্তীতে জঙ্গলাপূর্ন পতিত ভূমিতে পরিনত হলে ১২ জন আউলিয়া এই স্থানটিকে দ্বীন ইসলাম প্রচারের কেন্দ্র হিসাবে ইমারত, দীঘি ও এবাদতখানা প্রতিষ্ঠিত করেন এবং এখানে তারা ওফাৎ গ্রহণ করেন। শহীদ বাবা আদমের মসজিদ হিজরী ৮৮৮ সালে বাবা আদম নামে একজন ইসলাম ধর্ম প্রচারক মুন্সীগঞ্জে আগমন করেন। তখন রাজা বল্লাল সেনের রাজধানী ছিল রামপাল। কথিত আছে বাবা আদমের সহিত রাজা বল্লাল সেনের
১৮ দিন ব্যাপী যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে রাজা বল্লাল সেন পরাজিত হন। যুদ্ধ ক্ষেত্রে মাগরিবের নামাযের সময় বাবা আদম নামাজে মসগুল হলে রাজা বল্লাল সেন তাহাকে তরবারির আঘাতে হত্যা করেন। বাবা আদম শহীদের অনুচরেরা সে স্থানেই তাকে সমাহিত করেন এবং স্থানের নাম রাখা হয় দর্গা বাড়ী। এই দর্গা বাড়ীতেই শহীদ বাবা আদমের সমাধির পশ্চিম/উত্তর কোনে বাংলার জনগন শাসসুদ্দীন ইউসুফ শাহ বাবা আদম এর খানকা শরীফের স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য সুলতান জালালউদ্দীন আবু জাফর শাহ এর পুত্র মহান মালিক কাফুরকে নির্দেশ দেন। ১৪৭৯ সালে মালিক কাফুর সু-দৃঢ় বিস্তীর্ণ পাথর ভিতের উপর দুইটি স্তম্ভের কাঠামোতে মজবুত ফিলানের উপর ভর করে ছয় গম্ভুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। বৃটিশ শাসন আমল হতে মসজিদটি পুরাকীর্তির নিদর্শন স্বরূপ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নিয়ন্ত্রনাধীন আছে।