মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

 

১। শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপংকর : কয়েকশো বছর ধরে শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপংকরের এই ভিটা, যেটি স্থানীয়দের কাছে “পণ্ডিতের ভিটা” নামেই বেশী পরিচিত, অনাদরে পড়ে ছিলো। এইতো মাত্র কয়েক বছর আগে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী গ্রাম তাঁর জন্মসহস্রবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এখানে একটি মঠ নির্মাণ করা হয়েছে, স্থাপন করা হয়েছে স্মৃতিফলক।



মঠটির সমস্ত কারুকাজ করা হয়েছে মার্বেলে। মঠের সামনে দু’টো মার্বেল পাথরের ড্রাগন, ওদের থাবার নীচে নিয়ে দু’টো গোলক। যদিও ওগুলোর মর্মার্থ উদ্ধার করতে পারিনি, তবে আমার কাছে মনে হয়েছে ওগুলো পৃথিবীর রূপক।


মঠের এক কোনায় একটি পাথরে সাজানো ফোয়ারা আছে, আর আছে কিছু ফুলগাছ, চীনা বাঁশ (খুবই চিকন, বেঁটে আর ছোট) আর কিছু কলাগাছ। কোনোরকম দেখভাল ছাড়াই পড়ে আছে জায়গাটি। আশেপাশের বাড়ির লোকজন এখানে বসিয়েছে পোলট্রি খামার, মঠের উন্মুক্ত জায়গাকে ব্যবহার করছে বীজ আর খড় শুকানোর জন্য। অথচ শ্রীজ্ঞানের জন্মদিনে সুদূর চীন, তিব্বত, নেপাল আরো অনেক দেশ থেকে অনেক সুধীজন এসে এই গ্রামটাকে একবার দেখে যান, পণ্ডিতের প্রতি অর্ঘ্য নিবেদন করে যান। সরকার কি কিছু করবেন? করার মধ্যে দেখলাম অতি সম্প্রতি অতীশ দীপংকরের নামে পাশেই একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে।







 

 

২। ভানু বন্দোপাধ্যায় : ভানু জন্মেছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে ১৯২০ সালের ২৭শে অগাস্ট। ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি’স হাই স্কুল এবং জগন্নাথ কলেজে শিক্ষা শেষ করে কলকাতায় আসেন ১৯৪১ সালে। এখানে এসে তিনি আয়রন এন্ড স্টীল কম্পানি নামে একটি সরকারি অফিসে যোগ দেন এবং বালীগঞ্জের অশ্বিনী দত্ত রোডে তাঁর বোনের কাছে দু’বছর থাকার পর টালিগঞ্জের চারু অ্যাভিন্যু তে বসবাস শুরু করেন।

Vanuজনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা। তিনি ১৯২০ সালের ২৬ আগস্ট ঢাকার অদূরে বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম সাম্যময়। বাবা জিতেন্দ্রনাথ ছিলেন ঢাকার নবাব স্টেটের সদর মোক্তার। মাতা সুনীতি দেবী সরকারি শিক্ষা বিভাগে চাকরি করতেন।
মাত্র বারো বছর বয়সে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় বিপ্লবী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা বিপ্লবী দীনেশচন্দ্র গুপ্তের সহযোগী ছিলেন। ১৯৪০ সালে তিনি ঢাকা জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু স্বদেশি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাকে ঢাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়। ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতায় পালিয়ে যান। কলকাতার ‘আয়রন স্টিল কন্ট্রোলে’ অনেক দিন চাকরি করেন।
১৯৪৬ সালে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন। তার প্রথম অভিনীত ছবির নাম ‘জাগরণ’। জাগরণে তিনি দুর্ভিক্ষপীড়িত এক চরিত্রে রূপদান করেন। তার অভিনীত দ্বিতীয় ছবির নাম ‘নতুন ইহুদী’। এখান থেকেই তার খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। নাট্যমঞ্চের শিল্পী হিসেবেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি পেশাদারি রঙ্গমঞ্চে আসেন। তিনি প্রায় তিনশ’ ছবিতে অভিনয় করেন।
ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় ঢাকার গাড়োয়ানদের কাছ থেকে কৌতুক অভিনয়ের প্রাথমিক প্রেরণা পেয়েছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কলকাতায় কাটালেও ঢাকার ছেলে হিসেবে পরিচয় দিতে তিনি গর্ববোধ করতেন। ব্যক্তিগত আচার-আচরণে এবং অভিনয়ে তিনি পূর্ববঙ্গের কথ্য ভাষা ব্যবহার করেছেন। শুধু কৌতুকাভিনেতা নয়, চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও তিনি ছিলেন উঁচু দরের শিল্পী। ‘নির্ধারিত শিল্পীর অনুপস্থিতিতে’, ‘টাকা আনা পাই’, ‘দর্পচূর্ণ’ প্রভৃতি ছবিতে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্র করে তার নামে দুটি ছবিও হয়েছে। ছবি দুটির নাম ‘ভানু পেল লটারী’ এবং ‘ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিসটেন্ট’।
জীবনের শেষ দিকে এসে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় যাত্রাদলের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন। তিনি একটি দলও পরিচালনা করতেন। ১৯৫৫ সালে লেখা তার রসরচনার বই ‘চাটনী’ বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
তিনি ১৯৮৩ সালের ৪ মার্চ কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

 

৩। মরহুম আবুল ফজল : একজন ভাষা সৈনিক, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের খানকা গ্রামে তার জন্ম।